North Bengal Siliguri WestBengal

ঈদে নতুন পোশাকের আবদার স্ত্রীর, লকডাউনে অর্থহীন অবস্থায় অস্বাভাবিক মৃত‍্যু স্বামীর।

মালদা: দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে লকডাউন। আর তা পৌঁছেছে চতুর্থ দফায়৷ তার জেরে কর্মহীন হয়েছেন অনেকেই। দেখা দিয়েছে আর্থিক ও খাদ‍্য সঙ্কট।

আর এদিন দুদিবস পেরিয়ে আসছে ধর্মপ্রান মুসলিমদের পবিত্র ঈদ-উল ফিতর৷

উৎসবে স্ত্রী তার স্বামীর কাছে সন্তান সহ নিজের জন‍্য নতুন পোশাকের আবদার জানাচ্ছিলেন। তব উপার্জন না হওয়ায় ম্লান হয়ে পড়ে স্বামী তার স্ত্রীর কথায় ৷
এনিয়ে দিন কয়েক আগে দু’জনের মধ্যে ঝামেলাও হয় পরিবারে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর৷ অভিমানে সন্তানদের সাথে করে বাবার বাড়িতে চলে যায় স্ত্রী৷

এহেন স্ত্রীহীনতায় মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করে স্বামী৷শেষ পর্যন্ত শুক্রবার সকালে নিজের ঘর থেকে স্বামীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়৷ শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে মালদা জেলার রতুয়া-১ ব্লকের পরাণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মালদাপট্টি এলাকায়৷

পুলিশ জানায়, মৃতের নাম মোঃ সাদ্দাম মিঞা(২৮) তারা তিন ভাই এক বোন।বাবার দুটি ছোট লরি রয়েছে৷ সেই লরিই চালক ছিলেন সাদ্দাম ও তার মেজো ভাই৷ তিন ভাইয়ের মধ্যে সাদ্দামই ছিল বড়৷৯ বছর আগে তাঁর বিয়ে হয় ওই এলাকারই যুবতি মোস্তারি খাতুনের সঙ্গে৷তাঁদের দুই ছেলেমেয়ে৷মেয়ে সুহানি বয়স সাত বছর৷ছেলে সুলতান তার বয়স ০৫ বছর৷

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, লকডাউনে কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সাদ্দামের৷হাতে টাকাপয়সা কিছুই ছিল না৷এনিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কিছুদিন ধরেই তাঁর ঝামেলা হচ্ছিল৷ স্ত্রী তাঁকে পরিবার থেকে আলাদা হয়ে মুদির দোকান শুরু করার কথা বলছিল৷ কিন্তু দোকান করতে গেলে পুঁজির প্রয়োজন৷সেটাও সাদ্দামের কাছে ছিল না৷এদিকে এগিয়ে আসছে ঈদ৷উৎসবে নিজের নতুন শাড়ি এবং ছেলেমেয়েকে জামাকাপড় কিনে দেওয়ার জন্য কয়েকদিন ধরেই তাঁর কাছে বায়না শুরু করেছিল স্ত্রী মোস্তারী৷সব মিলিয়ে প্রবল মানসিক চাপে ভুগছিলেন সাদ্দাম৷আজ ভোরবেলা রোজা ধরতে সেহেরি খাওয়ার জন্য সাদ্দামকে ডাক দিতে থাকে সাদ্দামের মা ফুলো বিবি তবে সাদ্দাম ডাকের সাড়া না দেওয়া তেই তার মা তার ঘরে লক্ষ করে দেখেন,ঘরের ভিতর ফ্যানের সাথে ঝুলেছে সাদ্দামের দেহ৷মায়ের চিৎকারে জেগে ওঠে পরিবারের লোকজন ও গ্রামবাসী,খবর যায় রতুয়া থানায়৷ঘটনার খবর পেয়ে সকাল আটটার সময় ঘটনাস্থলে আসে রতুয়া থানার পুলিশ।পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেলে ও হাসপাতালে পাঠায়৷

সাদ্দামের পিতা আজুল মিঞা বলেন, “বাড়িতে ছোট একটা মুদিখানার দোকানও আছে৷ আমি ওকে সেই দোকানটা দিতে চেয়েছিলাম৷ বলেছিলাম, ও বড় ছেলে, ও ভালো থাকলে পরিবারও ভালো থাকবে৷ ওকে বলেছিলাম, ওর ইচ্ছা হলে গাড়ি চালাতে পারে, ইচ্ছা হলে দোকানও করতে পারে৷ শেষ পর্যন্ত ও নিজেই আমাকে বলে, ও গাড়ি চালাবে৷ আমাকে দোকানে বসতে বলে৷ ছেলে পরিবার থেকে আলাদা হতে চায়নি৷ বউমা চেয়েছিল৷ এনিয়ে বউমা অবশ্য কোনওদিন বাড়িতে গণ্ডোগোল করেনি৷ তবে লকডাউনের মধ্যে ছেলে আর বধূর মধ্যে টাকাপয়সা নিয়ে একটু গোলমাল হয়েছিল৷আমাদের কারোর হাতেই টাকাপয়সা নেই৷ দুটো গাড়ি বসে রয়েছে৷ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে গাড়ি কেনা হয়েছিল৷ লকডাউনের ফলে গাড়ির লোনের কিস্তি ও চালাতে পারছিনা ওর ছেলেমেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে ওকে চিন্তা করতেও বারণ করেছিলাম৷কিন্তু কোথায় থেকে কী হয়ে গেল,বুঝতে পারছি না৷ আমার মনে হয়, লকডাউনে স্ত্রীর সঙ্গে টাকাপয়সার গোলমালের জেরেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে ছেলে এই ঘটনা ঘটিয়েছে৷”

সাদ্দামের কাকা লালু মিঞা বলেন, “লকডাউনের মধ্যে এখন ছেলে রোজগার করতে পারছিল না৷ ঈদের আগে স্ত্রী ওর কাছে নগদ অর্থ কিংবা নতুন জামাকাপড় চেয়েছিল৷ এনিয়ে হয়তো ওদের মধ্যে ঝামেলা বাধে৷বেশ কিছুদিন ধরে টাকা পয়সা উপার্জন না করাতেই স্ত্রী তাকে হামেশাই খোটা দিত।পরিবার থেকে আলাদা হয়ে থাকার কথা বলছিল। তবে সাদ্দাম বাবা-মা থেকে আলাদা হবে না এমনটাই সাফ জানিয়ে দিয়েছিল স্ত্রী মোস্তারীকে, এরপর ছেলেমেয়ে নিয়ে গত পরশুদিন বাবার বাড়িতে চলে যায় মোস্তারী৷এসব নিয়েই ছেলেটা মানসিক চাপে ছিল৷ লকডাউনে গাড়ি চালাতে পারছিল না৷বাড়িতেই বসে ছিল৷লকডাউনের জন্যই ছেলেটাকে এভাবে চলে যেতে হল৷মানসিক চাপ আর সহ্য করতে পারেনি সে৷”

এপ্রসঙ্গে মালদহের রতুয়া থানার ওসি কুনাল কান্তি দাস বলেন, এদিন তার বাড়ি থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে মালদা মেডিকেলে কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন‍্য পাঠানো হয়েছে৷ ঘটনার এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি৷ পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ থানায় দায়ের করলে তা তদন্ত শুরু করা হবে ৷ এমতাবস্থায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরূ করা হয়েছে রতুয়া থানার পুলিশের তরফে৷

News: tanuj Jain.

Share this:

You may also like