North Bengal

হোমে থাকা মেয়েকে ফিরিয়ে নিতে এসে, বাবা-মা পেলেন মৃতদেহ !

গত ৮ মাস ধরে নিখোঁজ। রেলপুলিশ বা স্থানীয় থানা কেউই খোঁজ দিতে পারেনি। অবশেষে দিন কয়েক আগে উত্তর ২৪ পরগণা জেলা চাইল্ড লাইনের এক প্রতিনিধি জানান, মালদায় একটি সরকারি হোমে রয়েছে তাঁদের মেয়ে। খবর পেয়েই হোমে থাকা মেয়েকে ফিরিয়ে নিতে এসে, বাবা-মা পেলেন মৃতদেহ !! ঘটনায় হোম কর্তৃপক্ষ সহ একাধিক সংস্থার ভূমিকা প্রশ্নের মুখে। বৃহস্পতিবার মেয়ের মৃতদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন তাঁরা। ঘটনায় মালদা জেলা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ওই দম্পতি।উত্তর ২৪ পরগণার নৈহাটির বাসিন্দা সাধন রজক ও তাঁর স্ত্রী উমা রজক। তাঁদের একমাত্র মেয়ে উষা। বয়স ২৬। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ পাশও করেছিলেন উষা রজক। কিন্তু তারপরেই হঠাৎ মানসিক রোগে আক্রান্ত হন তিনি। তাঁর চিকিৎসাও চলছিল। গত বছর ১৮ জুলাই মেয়ের প্রতিবন্ধী শংসাপত্র নিতেই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ব্যারাকপুর যাচ্ছিলেন উমা রজক।

নৈহাটি স্টেশনচত্বর থেকে হারিয়ে যায় তাঁর মেয়ে। অনেক খুঁজেও মেয়েকে না পেয়ে শেষে ২১ জুলাই নৈহাটি রেলপুলিশে একটি মিসিং ডায়েরি করেন। নৈহাটি থানাতেও লিখিতভাবে বিষয়টি জানান। তারপর ৮ মাস কেটে গেলেও পুলিশ কোনও সন্ধান দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত গত ৬ ফেব্রুয়ারি তাঁদের বাড়িতে আসেন উত্তর ২৪ পরগণা জেলা চাইল্ড লাইনের এক প্রতিনিধি। তিনি জানান, তাঁদের মেয়ে মালদায় রয়েছে। মেয়েকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে গত সোমবার তাঁরা মালদা পৌঁছান। সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখিয়ে জানতে পারেন, তাঁদের মেয়ে আর বেঁচে নেই। গত ৫ অক্টোবর উষা মারা গেছেন। কান্নায় ভেঙে পড়েন উমা রজক। আজ তাঁরা মেয়ের মৃতদেহ বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে মালদা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে যান।উষার দাদা অমরদীপ রজক আজ একাধিক প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “যখন উত্তর ২৪ পরগণা চাইল্ড লাইনের প্রতিনিধি তাঁদের বাড়িতে গিয়েছিলেন, তখনই কেন বোনের মৃত্যুর খবরটা তিনি জানালেন না? মালদা জেলা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটিও প্রথমে কেন সেকথা গোপন করল? কেন মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে তাঁর বাবা-মাকে মালদা টেনে আনা হল? তাঁর বোন হয়তো আর ফিরে আসবে না। ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পুলিশ ও চাইল্ড লাইন ।সমস্ত বিষয়টি জানার পর পরিবারের পাশে দাঁড়ান মালদা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারপার্সন চৈতালি ঘোষ সরকার। তিনি জানান, মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। মালদার রাস্তায় তাঁকে ঘুরতে দেখা যায়। সে অসুস্থ ছিল। তাই তাঁকে মালদা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছিল। হঠাৎই সে মারা যায়। তবে তাঁর স্বাভাবিক মৃত্যুই হয়েছিল। এরপর থেকেই তাঁর পরিবারের খোঁজ করা হচ্ছিল। অবশেষে পরিবারের খোঁজ পেয়ে তাঁদের খবর দেওয়া হয়। আজ পরিবারের হাতে মৃতদেহ তুলে দেওয়া হয়।

News: হক জাফর ইমাম।

Share this:

You may also like