North Bengal

নিখোঁজ ছেলের পোস্টার সেঁটে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ছেলের সন্ধান পেলেন বৃদ্ধা মা।

মালদা মেডিকেল কলেজের আউটডোরের সামনে থেকে প্রায় চার মাস আগে হারিয়ে গিয়েছিল ছেলে। সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ জানিয়েও সন্ধান মেলেনি ছেলের। অবশেষে বৃদ্ধ মা নিজেই গাঁটের টাকা খরচ করে গ্রামে গ্রামে ছেলের সন্ধানের জন্য পোস্টার সেঁটে বেড়াচ্ছিলেন। তার সঙ্গে দেওয়া ছিল অন্যের একটি মোবাইল নম্বর । অবশেষে চার মাস পর দক্ষিণ দিনাজপুরের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে নিখোঁজ ছেলের সন্ধান পেলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমন্ডি থানার মহিপাল এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ছেলেকে নিয়ে আসেন পুরাতন মালদা থানার মহিষবাথানি এলাকার ৭০ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধা জাবেদা বিবি। হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে কাছে পেয়ে চোখের জল আর ধরে রাখতে পারেন নি ওই বৃদ্ধা।
বৃদ্ধা জাবেদা বিবি বলেন, গত বছর ২৬ নভেম্বর পুরাতন মালদা থানার পুলিশের কাছে ছেলের সন্ধানের অভিযোগ দায়ের করে কোনও লাভ হয় নি। তারপর একগাদা ছেলের ছবি সহ পোস্টার ছাপিয়ে মালদা মেডিক্যাল কলেজ , থানা সংলগ্ন সহ বিভিন্ন এলাকায় সেটে বেড়িয়েছি। লোকের কাছে ধার দেনা করে, বাড়ির ঘটিবাটি বিক্রি করে মালদা, রায়গঞ্জ , বালুরঘাট , মুর্শিদাবাদ জেলাতে গিয়েও গ্রামে গ্রামে ছেলের সন্ধানের জন্য পোস্টার ছাপিয়ে নিজেই সেঁটে বেরিয়েছি । অবশেষে সেই কষ্টের ফল মিলেছে।
বৃদ্ধা জাবেদা বিবি বলেন, মানসিক অসুস্থতা থাকায় গত ২৬ নভেম্বর ৩১ বছরের ছেলে তজবুর রহমানকে নিয়ে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের আউটডোরে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলেন তিনি। তাদের বাড়ি পুরাতন মালদা থানার মহিষবাথানি গ্রাম পঞ্চায়েতের বরকল এলাকার ইসলামপুর গ্রামে। সেদিন ছেলেকে ডাক্তারও দেখানো হয় আউটডোরে। ডাক্তার দেখিয়ে নামার সময় এক্সরের ঘরের সামনে প্রচণ্ড ভিড় ছিল। সেই ভিড়ের মধ্যে পড়ে ছেলে নিখোঁজ হয়ে যায়। ওই বৃদ্ধা দাবি করেন, ওইদিন দিনভর ছেলেকে হাসপাতাল চত্বরে খুঁজেছেন তিনি। কিন্তু হদিস পাননি। শেষে পুরাতন মালদা থানায় গিয়ে নিখোঁজের ডায়েরিও করেন।

তার আরও অভিযোগ, ছেলেকে খোঁজার ব্যাপারে পুলিশেরও কোনও হেলদোল দেখায় নি। তাই বাধ্য হয়েই পোস্টার ছাপিয়ে নিজেকেই এখানে-সেখানে সাঁটতে হয়েছিল। যাতে সেই পোস্টার দেখে কেউ ছেলের সন্ধান দিতে পারে।
জাবেদা বিবি বলেন , বুধবার রাতে একটি অচেনা নম্বর থেকে মোবাইলে ফোন আসে। ওপ্রান্ত থেকেই ছেলের ছবি দেখে শনাক্ত করেই খবর দেওয়া হয় । যার ফোন নম্বর দেওয়া ছিল প্রতিবেশী সেই ব্যক্তি আমাকে বিষয়টি জানায় । আর দেরি না করেই বৃহস্পতিবার সূর্য উঠতেই আমি দক্ষিণ দিনাজপুরে ছুটে যায় সীমান্ত এলাকা থেকে ছেলেকে জনৈক ব্যক্তি উদ্ধার করেছে তাকে ধন্যবাদ জানায়।পুরাতন মালদা কেন্দ্রের বিধায়ক অর্জুন হালদার বলেন , ঘটনাটি কয়েক মাস আগের । ওই বৃদ্ধ আমার কাছে এসেছিলেন । তার সমস্যার কথা শুনে পুলিশকেও বলেছিলাম। কিন্তু সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের তরফ থেকে কোনো সহযোগিতা মিলে নি। নিজেই টাকা খরচ করে পোস্টার বানিয়ে গ্রামে গ্রামে সেঁটে ছেলেকে উদ্ধার করতে পেরেছে এর থেকে বড় কি আর পাওনা আছে। কিন্তু পুলিশ চেষ্টা করলেই পারতো। সেটা তারা করে নি আমরা চাই এ ই ধরনের ঘটনা যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়।
যদি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করে নি পুরাতন মালদা থানা পুলিশ।

News: হক জাফর ইমাম।

Share this:

You may also like