North Bengal

কন্যা সন্তান হওয়ায় গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে চিতা সাজিয়ে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা।

পরপর তিনটি কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় গৃহবধূকে বাড়ির উঠোনে চিতা সাজিয়ে গৃহবধূর হাত-পা বেঁধে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠল স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে।বুধবার রাতে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মালদা হবিবপুর থানার আদিবাসী অধ্যুষিত ধুমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তিলাসন গ্রামে। রাতেই স্থানীয় গ্রামবাসীরা সংকটজনক অবস্থায় ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে মালদা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করান। মালদা
মেডিকেল কলেজের ডেপুটি সুপার ডাঃ জ্যোতিষ চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, ওই মহিলা রোগীর অবস্থা সঙ্কটজনক। তার শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে । বার্ন ইউনিটে রেখে ওই মহিলার চিকিৎসা চালানো হচ্ছে। ৭২ ঘন্টা না কাটলে তার শারীরিক অবস্থার কথা বলা যাচ্ছে না।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জখম গৃহবধূর নাম মনিকা ভুঁইমালি (৩৫)। তার বাবার বাড়ি মালদা কালিয়াচক থানার বাহাদুরপুর গ্রামে। ১২ বছর আগে হবিবপুরের তিলাসন গ্রামের বাসিন্দা পেশায় ট্যাক্সিচালক টগর ভুঁইমালির সঙ্গে বিয়ে হয় মনিকার । বিয়ের পর প্রথম কন্যা সন্তানের জন্ম দেন । এর চার বছরের মধ্যে আরো একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন মনিকা। অবশেষে তিন নম্বর সন্তানটিও হয় কন্যা । এই তিন কন্যা সন্তানের নাম বিউটি (৭) শিউলি (৬) এবং শিল্পী (২) ।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, পুত্র সন্তান না হওয়ার কারণেই ওই মহিলাকে স্বামীসহ তার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা মারধর করতো এবং তার উপর চরম নির্যাতন চালাতো। বুধবার রাতে পাড়া-প্রতিবেশীরা ওই মহিলার আর্তচিৎকার পেয়ে তার শ্বশুর বাড়িতে ছুটে যান । সেখানেই দেখেন খুব, বাঁশ জমা করা আছে বাড়ির উঠোনে । আর তার মধ্যেই দাও দাও করে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জ্বলছে মনিকা । এরপরই স্থানীয়রা আগুন নেভানোর ব্যবস্থা করেন। এবং জখম অবস্থায় ওই মহিলাকে মালদা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে নিয়ে আসেন।জখম গৃহবধূর এক কাকা শ্রীরাম সাহা জানিয়েছেন, পরপর তিনটি কন্যা সন্তান হয়েছিল ভাইজির। মনিকার পুত্র সন্তান হচ্ছিল না । এই কারণেই ভাইজির উপর চরম অত্যাচার চালাচ্ছিল শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। বুধবার রাতে তাকে মারধর করা হচ্ছে বলে মোবাইলে ফোন করে জানিয়ে ছিলেন ভাইজি । এরপরই মনিকাকে আগুনে পুড়িয়ে মারার বিষয়টি জানতে পারি। জখম অবস্থায় মনিকা বলেছে তাকে বাড়ির উঠোনে রীতিমত বাঁশ, খড় দিয়ে চিতার মতোন সাজিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। পাড়া প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় কোনরকমে প্রাণে বেঁচেছে সে।
এদিকে পুরো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে হবিবপুর থানার পুলিশ । সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় জখম গৃহবধূর স্বামী টগর ভুঁইমালি, শশুর বাদল ভুঁইমালি, শাশুড়ি সুলেখা ভুঁইমালি এবং এক ননদ বিশাখা ভুঁইমালির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

News: হক জাফর ইমাম।

Share this:

You may also like