North Bengal

৭০তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে অবসরের জীবনশিখা স্বেচ্ছাসেবীর অভিনব উদ্যোগ।

৭০তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে অবসরের জীবনশিখা স্বেচ্ছাসেবীর অভিনব উদ্যোগ। অবসরের জীবন শিক্ষা স্বেচ্ছাসেবী প্রায় সাত বছর ধরে বিভিন্ন নতুন নতুন মানব কল্যাণে কাজ করে আসছে, প্রতি বছরে বিভিন্ন উৎসবে এই সংস্থাটি সমাজের পিছিয়ে পড়া ছেলেমেয়েদের পাশে এসে দাঁড়ায়৷ সামাজিক অবক্ষয়ের শিকার হওয়া মানুষের পাশে থেকে এগিয়ে যাওয়ার রসদ যোগায়৷

আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি৷ ৭০তম প্রজাতন্ত্র দিবসে পিতার কাছে বর্জিত এক শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে সংস্থাটি৷ ছেলেটিকে জীবনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়েছেন সংগঠনের সদস্যরা৷ তাঁদের প্রচেষ্টাকে স্যালুট জানিয়ে ছেলেটির পড়াশোনায় সমস্ত সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন ইংরেজবাজারের বিধায়কও৷
মালদা শহরের প্রাণকেন্দ্র ফোয়ারা মোড়ে আড্ডা দিতে দিতেই কয়েকজন যুবক তৈরি করেছিলেন অবসরের জীবনশিখা নামে অরাজনৈতিক এই সংস্থা৷ প্রথমে ভবঘুরেদের শীতবসস্ত্র দান এবং তেমনই আরও কিছু কাজ দিয়ে শুরু হয়েছিল সংস্থার পথ চলা৷ তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কাজের পরিধি আরও বেড়েছে৷ প্রতি বছর প্রজাতন্ত্র দিবসে সংস্থার সদস্যরা সারাটা দিন কাটান গরিব কিংবা সামাজিক শিকারের ছোবল খাওয়া ছেলেমেয়েদের সঙ্গে৷ আজও সেই ছবি দেখা গিয়েছে শহরের কৃষি ফার্ম সংলগ্ন একটি মাঠে৷

৬০০ জনেরও বেশি ছেলেমেয়ে আজ সেই অনুষ্ঠানের আনন্দ উপভোগ করেছে তারিয়ে তারিয়ে৷ সকাল থেকে খেলাধুলো, গান ও নাচ, দুপুরে পেট পুরে মাংস-ভাত খেয়ে বিকেলে তারা বাড়ি ফিরেছে৷ উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক নীহাররঞ্জন ঘোষ, পৌরসভার কাউন্সিলর পরিতোষ চৌধুরি থেকে শুরু করে প্রশাসন ও পুলিশের একাধিক আধিকারিকও৷
এখানেই উঠে এসেছে রিয়ম ঝা নামে বছর দশেকের একটি ছেলের করুণ কাহিনি৷ সে মালদা জেলা স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে৷ বাবা পূর্ণচন্দ্র ঝা প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক৷ মা কাকলি ঝা সাধারণ গৃহবধূ৷ জনের কিছু সময় পর থেকেই দুই পায়ের ক্ষমতা হারিয়েছে রিয়ম৷ বিকলাঙ্গ ছেলেকে নিজের ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলতে বছর চারেক আগে রিয়ম ও কাকলিদেবীকে ত্যাগ করেন পূর্ণবাবু৷ কিছুদিন আগে রিয়মের বৃত্তান্ত জানতে পেরেছিলেন অবসরের জীবনশিখার সদস্যরা৷ চারদিক খুঁজে আজ তাঁরা নিজেদের অনুষ্ঠানে হাজির করেন রিয়মকে৷

সংগঠনের কর্ণধার, মালদা জেলা আদালতের বিশিষ্ট আইনজীবী সুদীপ্ত গঙ্গ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, অনেক মানুষই নিজেদের অধিকার সম্পর্কে কিছু জানে না৷ আমাদের লক্ষ্য হল সব ধরনের বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো৷ মূলত বাচ্চাদের দিকে আমরা বিশেষ নজর রাখি৷ যাতে তারা এগিয়ে যেতে পারে, যাতে তারা কোনও খারাপ সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ে৷ তারা যেন মূল স্রোতে থেকে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে তার দিকেই আমাদের লক্ষ্য থাকে৷ আমরা আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যে সব ছেলেমেয়ের বাবা-মা কেউ নেই, সাবালক না হওয়া পর্যন্ত আমরা তাদের পাশে থাকব৷ তাদের এগিয়ে নিয়ে যাব জীবনের মূল লক্ষ্যে৷

News: হক জাফর ইমাম।

Share this:

You may also like